মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় রাস্তার কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এক পৌর কর্মকর্তার দপ্তরে ঢুকে তার টেবিলের ওপর দুটি কুকুরছানা রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিবসেনার (ইউবিটি) এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিক্রম রানধাভে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিক্রম রানধাভে কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে নিফাদ নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরের দপ্তরে ঢোকেন। এরপর তিনি একটি বস্তা থেকে দুটি কুকুরছানা বের করে কর্মকর্তার টেবিলের ওপর ছেড়ে দেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, রানধাভে কুকুরছানা দুটিকে কর্মকর্তার টেবিলের ওপর রাখছেন এবং কর্মকর্তা এতে অবাক হয়ে যান।
ভিডিওতে রানধাভেকে বলতে শোনা যায়, গত ছয় মাস ধরে তারা এলাকায় রাস্তার কুকুরের সমস্যা নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাদের আবেদনে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামর বিক্ষোভকারীদের জানান, রাস্তার কুকুরের সমস্যা সমাধানে পৌর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে কাজের জন্য দরপত্র প্রকাশ করেছে।
তবে এতে রানধাভে সন্তুষ্ট হননি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরো বেশি কুকুর নিয়ে অফিসে আসার হুমকি দেন তিনি। একই সঙ্গে কুকুরের সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদেরও নিয়ে আসার কথা বলেন।
পৌর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে রানধাভে কর্মকর্তার টেবিলে টাকার নোট দিয়ে তৈরি একটি মালাও রাখেন।
রানধাভের দাবি, নিফাদ নগর পঞ্চায়েত এলাকায় চার শতাধিক রাস্তার কুকুর রয়েছে।
প্রতি মাসে শতাধিক মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হন বলেও তিনি দাবি করেন। বিশেষ করে গণেশ উৎসবের সময় শিশু, বয়স্ক মানুষ ও গাড়িচালকদের জন্য রাস্তার কুকুরের উপদ্রব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী আদিত্য ঠাকরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাস্তার কুকুরের সমস্যা সমাধানে পৌর কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। তবে প্রতিবাদের সময় কুকুরছানাগুলোর সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।
ঠাকরে জানান, তিনি ওই ব্যক্তিকে ক্ষমা চাইতে এবং ভবিষ্যতে এভাবে প্রতিবাদ না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে ওই ব্যক্তি ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।