১৩ সেপ্টেম্বর সকালে উত্তর-পশ্চিম জেলার স্বরূপ নগরের বাসিন্দারা দিল্লি পুলিশকে জানান, পাশের একটি মাঠে কুকুর একটি মৃতদেহ খাচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে, মারাত্মকভাবে পচে যাওয়া একটি মরদেহ দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় পুলিশও।
মরদেহের একটি হাত বিচ্ছিন্ন ছিল এবং শরীরের কিছু অংশ বেওয়ারিশ কুকুর কামড়ে খেয়েছিল। মরদেহটি এতটাই পচে ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল যে প্রাথমিকভাবে পুলিশের পক্ষে তার লিঙ্গ নির্ধারণ করাও সম্ভব ছিল না।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ বিকৃত করা হয়েছিল এবং তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল। পরবর্তীতে মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
২০১২ সালে নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা শুধু দিল্লি নয়, কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা ভারত। কিন্তু ভারতে ধর্ষণ থামেনি, ধর্ষকদের হৃদয় কাঁপেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, স্বরূপ নগরে ধর্ষিতা কিশোরীকে তার পূর্ব পরিচিত চার তরুণ দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও পরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। পরে তার মরদেহ কুশাক রোডের খোলা মাঠে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর মরদেহটি উদ্ধার করা হলেও ঘটনাটি ঘটেছে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে। ভুক্তভোগী কিশোরী এবং অভিযুক্তরা একে অপরের পরিচিত ছিল এবং অপরাধটি ঘটার সময় সে তাদের সাথে একটি টেম্পোতে ভ্রমণ করছিল।
অভিযোগ রয়েছে, কিশোরীকে যৌন নির্যাতন ও ছুরিকাঘাতে হত্যার পর লাশ গুম করার আগে অভিযুক্তরা সবাই মিলে টেম্পোর ভেতরে মদ্যপান করেছিল। মেয়েটির পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, মেয়েটি প্রায়ই বাড়ি থেকে চলে যেত এবং কয়েকদিন পর আবার ফিরে আসত। সে কারণেই পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
যেহেতু কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না এবং অপরাধীদের পরিচয় প্রাথমিকভাবে অজানা ছিল, তাই পুলিশের কয়েকটি দল ওই এলাকা ও আশেপাশের রুটের ৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে।
বিশ্লেষণের সময়, অপরাধের আনুমানিক সময়ে ঘটনাস্থলের কাছে একটি টেম্পো চলাচল করতে দেখা যায়। অন্ধকারের কারণে এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল না, যার ফলে তদন্তকারীরা একাধিক সিসিটিভি লোকেশন ধরে এর গতিবিধি ট্র্যাক করেন। ১৫ এবং ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে একটি রাতভর তল্লাশি অভিযান চালানো হয় এবং সন্দেহভাজন টেম্পোটি সনাক্ত করা হয়। এর চালককে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এই তদন্তের সূত্র ধরে পরবর্তীতে অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন কিশোরসহ চারজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তের নাম শিবম ওরফে সুদামা ওরফে চুচু, যে খাড়া কলোনির বাসিন্দা।
বাকি তিন কিশোরের বয়স ১৬ এবং ১৭ বছর। অপরাধে ব্যবহৃত দুটি ছুরি, অভিযুক্তদের পরিহিত পোশাক এবং টেম্পোটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা, আটককৃতদের ব্যক্তিগত ভূমিকা নির্ধারণ এবং ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করতে পরবর্তী তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।