• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণালংকার উত্তোলন, জানেন না গ্রাহক ছোট বহর নিয়ে নিয়মিত ফ্লাইটে জাতিসংঘের পথে প্রধানমন্ত্রী : মাহদী আমিন ভারতে প্রথম আসছে ডেঙ্গু টিকা : এটি কিভাবে কাজ করে? ব্লু ইকোনমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত : শিক্ষামন্ত্রী সাভারে আওয়ামী লীগের ৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার নরসিংদীতে এসে সৌন্দর্য সচেতন নারীদের জন্য যে বার্তা দিলেন জনপ্রিয় ব্র‍্যান্ড প্রমোটর বারিশা হক কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কু/পি/য়ে হ/ত্যা, আহত ভাবি কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশির মৃ/ত্যু, অভিযানে বন্ধ অবৈধ শতাধিক হোটেল রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রাতে রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, দাবি ইরানের; মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার হুমকি

ভারতে প্রথম আসছে ডেঙ্গু টিকা : এটি কিভাবে কাজ করে?

ফ্রন্টলাইন ডেস্ক
প্রকাশকাল : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডেঙ্গু মোকাবেলায় ভারত শিগগিরই নতুন একটি টিকা পেতে যাচ্ছে। ভারতের ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ ও তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যাল এ বিষয়ে একটি চুক্তি করেছে।
চুক্তির আওতায় ভারতে কিউডেঙ্গা টিকার প্রচার ও বিতরণ করা হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে ভারতে কিউডেঙ্গা টিকা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতে ডেঙ্গু এখনো জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ।
ভারতে বিশেষ করে বর্ষাকাল ও বর্ষার পর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। ভারতে ডেঙ্গু এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। এডিস মশার মাধ্যমে মূলত ডেঙ্গু ছড়ায়। জমে থাকা পানিতে এই মশা বংশবিস্তার করে।
বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
কিউডেঙ্গা কী?
কিউডেঙ্গা হলো জাপানের ওষুধ কম্পানি তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালের তৈরি একটি ডেঙ্গু টিকা। এই টিকা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি। টিকাটি ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
কিউডেঙ্গা টিকা দুই ডোজে দেওয়া হয়। প্রতিটি ডোজের পরিমাণ ০.৫ মিলিলিটার। প্রথম ডোজ দেওয়ার তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। এই টিকার একটি বিশেষ দিক হলো, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও বা ডেঙ্গু ভাইরাসের সংস্পর্শে না এলেও টিকা দেওয়া যায়। তাই টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না।
ভারতে কবে পাওয়া যাবে কিউডেঙ্গা টিকা?
ভারতে কিউডেঙ্গা ডেঙ্গু টিকা ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিউডেঙ্গা টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে। এদিকে ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ ও তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালের চুক্তির ফলে ভারতে কিউডেঙ্গা টিকার প্রচার ও বিতরণ করা হবে।
টিকাটি কতটা কার্যকর?
টিকাটি নিশ্চিত ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছে। সূত্রটিতে বলা হয়েছে, একটি শেষ পর্যায়ের পরীক্ষায় দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার এক বছর পর কিউডেঙ্গা নিশ্চিত ডেঙ্গু রোগীদের বিরুদ্ধে ৮০.২ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে।
টিকাটি ১৮ মাস পর ডেঙ্গু-জনিত হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রেও ৯০.৪ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে, যা গবেষণাটির একটি গৌণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। এই পরিসংখ্যানগুলো সূত্রে উল্লিখিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো গবেষণায় অংশগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর ওপর টিকার কার্যকারিতা বর্ণনা করে।
তবে এই ফলাফল নির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাওয়া গেছে। তাই সবার ক্ষেত্রে টিকাটি একই মাত্রায় কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা এই তথ্য থেকে দেওয়া যায় না।
ভারতের ডেঙ্গু টিকা কেন প্রয়োজন?
ভারতসহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ডেঙ্গু এখনও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সাধারণত বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। এ সময় জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর বোর্ন ডিজিজেস কন্ট্রোলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৯৫ জন মারা যান।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ভারতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনও একটি বড় সমস্যা। তাই মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার মতো কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাই মশা নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের পাশাপাশি ডেঙ্গুর টিকা রোগ প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে। তবে শুধু টিকা নিলেই হবে না। জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা এবং মশার বংশবিস্তার কমানোর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও চালিয়ে যেতে হবে।
কিউডেঙ্গা টিকার ভারতে আসা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি দুই ডোজে দেওয়া হয় এবং দুই ডোজের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধান থাকে।
তাকেদা জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা বিশ্বব্যাপী বছরে ১০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। কম্পানিটি আরো জানিয়েছে, গত ২০ বছরে ভারতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণ ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার মতো পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৭ সালে কিউডেঙ্গা ভারতের বাজারে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত হতে পারে। তবে টিকা বাজারে আসার আগ পর্যন্ত মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা, মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর প্রধান উপায়।

Brand Logo
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতে প্রথম আসছে ডেঙ্গু টিকা : এটি কিভাবে কাজ করে?
frontline.bd << নিউজ লিংক কমেন্টে >>


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category